গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে কী বোঝায় বিস্তারিত জানুন
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে অনেক মায়ের মনেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে—এটি কি গর্ভাবস্থার সাধারণ পরিবর্তন, নাকি কোনো সমস্যার ইঙ্গিত? কখনো জরায়ু বড় হওয়া, লিগামেন্টে টান, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো তুলনামূলক সাধারণ কারণেও পেটের এক পাশে ব্যথা হতে পারে।
আবার গর্ভাবস্থার সময় ও ব্যথার ধরন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালা, কাঁধের ডগায় ব্যথা কিংবা তীব্র ও ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এই পোস্টে পেটের এক পাশে ব্যথা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ, কোন লক্ষণগুলো সাধারণ এবং কোনগুলো বিপদের সংকেত, কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। তাই গর্ভাবস্থায় এমন ব্যথা হলে আতঙ্কিত না হয়ে ব্যথার ধরন ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণগুলো বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পুরো পোস্টটি পড়লে কখন অপেক্ষা করা যায় এবং কখন দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার, সে সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে কী বোঝায়
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, জরায়ুর আকার বৃদ্ধি, লিগামেন্টে টান, হজমের পরিবর্তনসহ নানা কারণে পেটের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তাই হঠাৎ পেটের ডান বা বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হলে অনেক মায়ের মনে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তবে প্রতিটি ব্যথা যে বিপদের সংকেত, তা নয়। আবার কিছু ধরনের একপাশের ব্যথা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কারণও হতে পারে।
পোস্ট সুচিপত্রঃবিশেষ করে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে একপাশে তীব্র ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ বা ectopic pregnancy-এর মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী ectopic pregnancy-এর উপসর্গ সাধারণত গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেখা দিতে পারে এবং নিচের পেটের এক পাশে ব্যথা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
অন্যদিকে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক থেকে জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে round ligament বা জরায়ুকে ধরে রাখা লিগামেন্টে টান পড়ে পাশের দিকে সাময়িক তীক্ষ্ণ ব্যথা হতে পারে। হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো, বিছানায় পাশ পরিবর্তন করা, কাশি বা হাঁচির সময় এই ধরনের ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে। সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয়, কিন্তু ব্যথার ধরন, সময়, তীব্রতা এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে প্রথমে কী বুঝতে হবে
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে ব্যথাটি কী ধরনের তা লক্ষ্য করা দরকার। ব্যথা হঠাৎ শুরু হয়েছে, নাকি ধীরে ধীরে হয়েছে—এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ব্যথা কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিট থাকে, নাকি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে, সেটিও চিকিৎসকের কাছে বলার মতো বিষয়। একইভাবে ব্যথা শুধু নড়াচড়ার সময় হচ্ছে,
নাকি বিশ্রামেও হচ্ছে তা লক্ষ্য করা উচিত। হালকা ব্যথা যদি অবস্থান পরিবর্তন, বিশ্রাম, মলত্যাগ বা গ্যাস বের হওয়ার পর কমে যায়, তাহলে অনেক সময় এটি গুরুতর সমস্যার কারণে হয় না। NHS বলছে, গর্ভাবস্থায় হালকা পেটব্যথা বা ক্র্যাম্প সাধারণ এবং অনেক ক্ষেত্রে এর কারণ হতে পারে লিগামেন্টে টান, কোষ্ঠকাঠিন্য বা trapped wind।
তবে শুধু ব্যথার অবস্থান দেখে কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ডান পাশে ব্যথা মানেই একটি নির্দিষ্ট রোগ এবং বাম পাশে ব্যথা মানেই অন্য রোগ—এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একই ধরনের ব্যথা গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশি বা লিগামেন্টে টান, মূত্রনালির সংক্রমণ, ডিম্বাশয়ের সমস্যা কিংবা জরুরি গর্ভকালীন জটিলতার কারণেও হতে পারে।
তাই ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, অস্বাভাবিক স্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া আছে কি না, সেগুলোও বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একপাশের ব্যথা নতুনভাবে শুরু হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
গর্ভাবস্থায় একপাশের ব্যথার সাধারণ কারণ কী হতে পারে
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে শরীরের ভেতরে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। জরায়ু ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং আশপাশের টিস্যু, পেশি ও লিগামেন্টের ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে নিচের পেট বা কোমরের আশপাশে টান, চাপ কিংবা হালকা ব্যথা হতে পারে।
অনেক সময় হজমের পরিবর্তনের কারণেও পেটের নির্দিষ্ট একটি অংশে ব্যথা মনে হয়। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং এগুলো থেকেও পেটে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যদি ব্যথা হালকা হয় এবং বিশ্রাম বা মলত্যাগের পর কমে যায়, তাহলে সাধারণ কারণের সম্ভাবনা থাকে। তবে ব্যথা বারবার ফিরে এলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
আরেকটি সাধারণ কারণ হলো round ligament pain। জরায়ুর দুই পাশে থাকা লিগামেন্ট জরায়ুকে পেলভিসের সঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব লিগামেন্টে টান পড়ে এবং হঠাৎ নড়াচড়ার সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
এই ব্যথা অনেক সময় ডান বা বাম নিচের পেট কিংবা কুঁচকির দিকে অনুভূত হয়। Royal Berkshire NHS-এর তথ্য অনুযায়ী এ ধরনের ব্যথা সাধারণত দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বেশি দেখা যায় এবং হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো, বিছানায় ঘোরার মতো নড়াচড়া, কাশি বা হাঁচির কারণে বাড়তে পারে।
জরায়ু বড় হওয়ার কারণে কি একপাশে ব্যথা হতে পারে
হ্যাঁ, জরায়ু বড় হওয়ার কারণে একপাশে ব্যথা হওয়া সম্ভব। গর্ভাবস্থার অগ্রগতির সঙ্গে জরায়ু ছোট অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে উপরের দিকে ও বড় আকারে বিস্তৃত হয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে আশপাশের লিগামেন্ট ও টিস্যুতে টান সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অনেক নারী পেটের এক পাশে হঠাৎ খোঁচা বা টান ধরার মতো ব্যথা অনুভব করতে পারেন। NHS-এর গর্ভকালীন তথ্যেও জরায়ু প্রসারিত হওয়ার কারণে পেটের পাশের ব্যথাকে round ligament pain হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন হাঁচি দিলে শিশুর কোনো ক্ষতি হয় কি বিস্তারিত জানুন
এই ধরনের ব্যথা সাধারণত খুব দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় না এবং শরীরের অবস্থান পরিবর্তন বা বিশ্রাম নিলে কমে যেতে পারে। তবে ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, পানি বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া, জ্বর, প্রস্রাবে ব্যথা অথবা তীব্র ও অবিরাম পেটব্যথা থাকলে এটিকে শুধু লিগামেন্টের ব্যথা ধরে নেওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় একই ধরনের উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই সন্দেহ হলে নিজের মতো করে রোগের নাম নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের মূল্যায়ন করানোই নিরাপদ।
গর্ভাবস্থার শুরুতে একপাশে ব্যথা হলে কেন সতর্ক হতে হবে
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে প্রথম কয়েক সপ্তাহে একপাশে নিচের পেটে ব্যথা হলে বিশেষ সতর্ক হওয়া দরকার। এর একটি কারণ হতে পারে ectopic pregnancy, যেখানে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর ভেতরে না বসে সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অন্য স্থানে স্থাপিত হয়। এই অবস্থায় গর্ভধারণ স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারে না এবং মায়ের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী এ অবস্থার উপসর্গ সাধারণত ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে নিচের পেটের এক পাশে ব্যথার সঙ্গে যোনিপথে রক্তপাত বা বাদামি ধরনের স্রাব, কাঁধের ডগায় ব্যথা, মলত্যাগের সময় অস্বস্তি, প্রস্রাবে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, ectopic pregnancy-এর ক্ষেত্রে সব সময় সব উপসর্গ একসঙ্গে থাকে না। এমনকি শুরুতে কোনো উপসর্গ না থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমস্যা ধরা পড়তে পারে। তাই গর্ভাবস্থার শুরুতে নতুন ধরনের একপাশের ব্যথাকে দীর্ঘ সময় নিজের মতো করে পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
একটোপিক প্রেগন্যান্সির সঙ্গে একপাশের ব্যথার সম্পর্ক
একটোপিক প্রেগন্যান্সি এমন একটি অবস্থা যেখানে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর পরিবর্তে অন্য কোথাও স্থাপিত হয়, সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে। যেহেতু ফ্যালোপিয়ান টিউব গর্ভের মতো শিশুর বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত স্থান নয়, তাই গর্ভধারণ সেখানে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। গর্ভাবস্থা বাড়তে থাকলে টিউবের ওপর চাপ পড়ে এবং গুরুতর অবস্থায় তা ফেটে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হতে পারে। এই কারণেই প্রথম দিকে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
একটোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে ব্যথা নিচের পেটের এক পাশে হতে পারে এবং ব্যথাটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে অথবা হঠাৎ তীব্র হতে পারে। সঙ্গে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা বাদামি স্রাব থাকতে পারে। কাঁধের ডগায় অস্বাভাবিক ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়। টিউব ফেটে গেলে হঠাৎ প্রচণ্ড পেটব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।
ডান পাশে ব্যথা হলে সম্ভাব্য কারণ
ডান পাশে ব্যথার পেছনে অনেক সাধারণ কারণ থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুর পরিবর্তন, লিগামেন্টে টান, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ডান পাশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। আবার মূত্রনালির সংক্রমণ বা অন্য কোনো পেটের সমস্যাও একই অঞ্চলে ব্যথা তৈরি করতে পারে। তাই শুধু ডান পাশে ব্যথা হচ্ছে বলেই নির্দিষ্ট কোনো রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব, জ্বর বা কোমরে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থার পরের দিকে ডান পাঁজরের নিচে তীব্র বা স্থায়ী ব্যথার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা হাত-মুখ-পা বেশি ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী ২০ সপ্তাহের পর ডান দিকে পাঁজরের নিচে তীব্র বা স্থায়ী ব্যথা pre-eclampsia-এর মতো জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বাম পাশে ব্যথা হলে কী হতে পারে
বাম পাশে ব্যথার ক্ষেত্রেও একইভাবে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের পেশিতে টান কিংবা জরায়ুর বৃদ্ধির কারণে বাম দিকে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের দিকে round ligament pain-এর কারণে বাম পাশেও সাময়িক তীক্ষ্ণ ব্যথা হতে পারে, যদিও এটি ডান পাশেও বেশি অনুভূত হতে পারে।
বাম পাশে ব্যথা হালকা হলে এবং বিশ্রামের পর কমে গেলে সাধারণ কারণের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ব্যথা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, হাঁটাচলা কঠিন করে দেয় অথবা রক্তপাত, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট পাশে ব্যথা হচ্ছে বলেই সেটি নিরাপদ বা বিপজ্জনক—এমন সরল সিদ্ধান্ত চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প নয়।
গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও কি একপাশে ব্যথা হতে পারে
গর্ভাবস্থায় হজমের পরিবর্তনের কারণে গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য তুলনামূলকভাবে সাধারণ সমস্যা। পেটে গ্যাস আটকে গেলে নির্দিষ্ট একটি অংশে চাপ বা মোচড়ের মতো ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কখনো ব্যথা ডান দিকে, কখনো বাম দিকে বা পেটের বিভিন্ন অংশে স্থান পরিবর্তন করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রেও পেটে চাপ, ভারী লাগা বা ব্যথা হতে পারে। NHS গর্ভাবস্থায় হালকা পেটব্যথার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে constipation এবং trapped wind-এর কথা উল্লেখ করেছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র ব্যথা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ব্যথা যদি বিশ্রামের পরও না কমে বা এর সঙ্গে রক্তপাত, জ্বর, প্রস্রাবের সমস্যা কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। নিজের শরীরের আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে এবারকার ব্যথাকে একই কারণের বলে ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।
প্রস্রাবে জ্বালা থাকলে একপাশের ব্যথার কারণ কী হতে পারে
গর্ভাবস্থায় urinary tract infection বা মূত্রনালির সংক্রমণও পেটের নিচে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এর সঙ্গে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের চাপ, প্রস্রাবের রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন এবং কখনো জ্বর থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় মূত্রনালির সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ আরও উপরে ছড়িয়ে যেতে পারে। NHS গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবে ব্যথা বা প্রস্রাবের অস্বাভাবিকতার উপস্থিতিকে চিকিৎসকের মূল্যায়নের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তাই একপাশের পেটব্যথার সঙ্গে যদি প্রস্রাবে জ্বালা থাকে, শুধু গ্যাস বা লিগামেন্টের ব্যথা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসক প্রয়োজনে প্রস্রাব পরীক্ষা করে সংক্রমণের উপস্থিতি যাচাই করতে পারেন। গর্ভাবস্থায় নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কোন ওষুধ নিরাপদ এবং কতদিন ব্যবহার করতে হবে, সেটি চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
কোন লক্ষণ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
কিছু লক্ষণকে সাধারণ গর্ভকালীন অস্বস্তি হিসেবে অপেক্ষা না করে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। যদি পেটের ব্যথা হঠাৎ খুব তীব্র হয়, দ্রুত বাড়তে থাকে অথবা বিশ্রাম নেওয়ার পরও কমে না, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। NHS-এর নির্দেশনায় তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, যোনিপথে রক্তপাত, নিয়মিত ক্র্যাম্প বা পেট শক্ত হওয়া, অস্বাভাবিক স্রাব বা পানি পড়া, প্রস্রাবে ব্যথা এবং অন্যান্য সতর্কতামূলক উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শের কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একপাশের তীব্র ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি, খুব দুর্বল লাগা, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা কাঁধের ডগায় ব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যাওয়া উচিত। এগুলো ectopic pregnancy-এর জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হলে পরিস্থিতি জীবনহানির কারণ হতে পারে, তাই এ ধরনের লক্ষণে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাউন্ড লিগামেন্টের ব্যথা আর বিপজ্জনক ব্যথার পার্থক্য
Round ligament pain সাধারণত জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বেশি দেখা যায়। ব্যথাটি অনেক সময় হঠাৎ খোঁচা বা টান ধরার মতো হয় এবং শরীরের অবস্থান পরিবর্তন, হাঁটা, হাঁচি বা কাশির সময় সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। বিশ্রাম নিলে অনেক ক্ষেত্রে এটি কমে যায়। এই ব্যথা সাধারণত মা বা শিশুর জন্য বিপজ্জনক নয়।
অন্যদিকে বিপজ্জনক ব্যথা সাধারণত তীব্র, ক্রমশ বাড়তে থাকা অথবা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এর সঙ্গে অন্য সতর্কতামূলক লক্ষণ যুক্ত হতে পারে। যেমন রক্তপাত, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, জ্বর, প্রস্রাবে সমস্যা, অস্বাভাবিক স্রাব, পানি পড়া বা নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া। তবে লক্ষণ দেখে নিজে নিজে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
ব্যথা হলে বাড়িতে কীভাবে সতর্ক থাকবেন
হালকা এবং সাময়িক ব্যথা হলে প্রথমে কাজের গতি কমিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। দ্রুত উঠে দাঁড়ানো বা হঠাৎ শরীর ঘোরানোর পরিবর্তে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করা ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান করা, চিকিৎসকের অনুমতি অনুযায়ী স্বাভাবিক হালকা নড়াচড়া করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা সহায়ক হতে পারে। Round ligament pain-এর ক্ষেত্রে পাশ ফিরে বিশ্রাম নেওয়া এবং নড়াচড়া ধীরে করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব দূর করার উপায় বিস্তারিত জানুন
তবে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া কোনো জরুরি অবস্থার চিকিৎসা নয়। ব্যথা তীব্র হলে বা উপরের বিপদের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একপাশের ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত বা মাথা ঘোরা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হবে। কোনো ব্যথার জন্য নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
চিকিৎসক কী কী পরীক্ষা করতে পারেন
ব্যথার প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসক প্রথমে গর্ভাবস্থার কত সপ্তাহ চলছে, ব্যথা কোথায়, কতক্ষণ ধরে আছে, ব্যথার তীব্রতা কত এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব জানতে চাইতে পারেন। প্রয়োজনে শারীরিক পরীক্ষা, pregnancy test, রক্ত পরীক্ষা এবং ultrasound করা হতে পারে। বিশেষ করে ectopic pregnancy সন্দেহ হলে transvaginal ultrasound এবং রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।
কেবল উপসর্গ দেখে ectopic pregnancy নিশ্চিত করা সব সময় সম্ভব নয়। কখনো খুব প্রাথমিক অবস্থায় ultrasound-এও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। তখন চিকিৎসক উপসর্গ, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং পরবর্তী scan মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই অনলাইনে কোনো লেখা পড়ে নিজের রোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক যে পরামর্শ দেবেন সেটিই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
গর্ভাবস্থার কোন সময়ে একপাশের ব্যথা বেশি দেখা যায়
গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে পেটের ব্যথার কারণ ভিন্ন হতে পারে। প্রথম ত্রৈমাসিকে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের মতো জরুরি কারণ বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে একপাশের নিচের পেটের ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত বা মাথা ঘোরা থাকলে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জরায়ুর বৃদ্ধি ও round ligament-এর টান থেকে পাশের দিকে ব্যথা হওয়া তুলনামূলকভাবে পরিচিত সমস্যা।
গর্ভাবস্থার শেষ দিকে পেটের ব্যথার সঙ্গে নিয়মিত সংকোচন, পানি পড়া, রক্তপাত বা কোমরের ব্যথা থাকলে প্রসবের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। আবার পেটের নির্দিষ্ট অংশে তীব্র ব্যথা অন্য সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থার সপ্তাহ অনুযায়ী ব্যথার সম্ভাব্য কারণ বদলাতে পারে। একই উপসর্গের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত থাকলে কী করবেন
গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সঙ্গে যোনিপথে রক্তপাত দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রথম দিকে একপাশের ব্যথা এবং অস্বাভাবিক রক্তপাত একসঙ্গে থাকলে ectopic pregnancy বা miscarriage-এর মতো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হতে পারে। NHS গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সঙ্গে vaginal bleeding থাকলে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে।
রক্তপাত কতটা হয়েছে, রক্তের রঙ কেমন, কতক্ষণ ধরে হচ্ছে এবং ব্যথার মাত্রা কত—এসব তথ্য চিকিৎসককে জানানো উপকারী। নিজে থেকে রক্তপাত বন্ধ করার কোনো ওষুধ বা ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি রক্তপাতের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি থাকে, তাহলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় একপাশের ব্যথা হলে কী করবেন না
ব্যথা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে শক্তিশালী painkiller, অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় ওষুধের নিরাপত্তা গর্ভকাল, ডোজ এবং মায়ের অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ শুরু করা নিরাপদ নয়। একইভাবে পেটে জোরে চাপ দেওয়া, ম্যাসাজ করা বা ব্যথার জায়গায় অতিরিক্ত গরম কিছু ব্যবহার করাও উচিত নয় যদি ব্যথার কারণ জানা না থাকে।
আরেকটি ভুল হলো ইন্টারনেটে পড়া কোনো একটি রোগের লক্ষণের সঙ্গে নিজের উপসর্গ মিলিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া। পেটব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ এবং এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকায় সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জরুরি লক্ষণ থাকলে অনলাইনে উত্তর খোঁজার পরিবর্তে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।
কখন সাধারণভাবে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে
যদি ব্যথা খুব হালকা হয়, অল্প সময় থাকে, নড়াচড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং বিশ্রাম নেওয়ার পর কমে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে হওয়া অস্বস্তিও মলত্যাগ বা গ্যাস বের হওয়ার পর কমে যেতে পারে। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী এমন হালকা ব্যথা অনেক সময় গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়।
তবে পর্যবেক্ষণ করার অর্থ উপসর্গকে অনির্দিষ্ট সময় উপেক্ষা করা নয়। ব্যথা বারবার হলে, আগের চেয়ে তীব্র হলে, বিশ্রামেও না কমলে অথবা নতুন কোনো উপসর্গ যোগ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় নিজের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং antenatal check-up নিয়মিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে কখন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে এবং ব্যথাটি বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, অস্বাভাবিক স্রাব, জ্বর, কোমরের ব্যথা, রক্তপাত বা পেট শক্ত হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে অপেক্ষা না করাই ভালো। NHS গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সঙ্গে এসব লক্ষণকে চিকিৎসা মূল্যায়নের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একপাশের নিচের পেটব্যথা থাকলে এবং গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য হলে বিশেষভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। কারণ ectopic pregnancy-এর লক্ষণ সব সময় একই রকম হয় না এবং শুধুমাত্র ব্যথার তীব্রতা দেখে ঝুঁকি বোঝা যায় না। দ্রুত পরীক্ষা করা গেলে গুরুতর জটিলতা হলে সেটিও সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব।
মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাস্তব পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় নতুন কোনো ব্যথা শুরু হলে প্রথমে ব্যথার সময়, স্থান, তীব্রতা এবং কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে তা মনে রাখুন। ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, স্রাব, জ্বর, বমি, প্রস্রাবের সমস্যা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি আছে কি না সেটিও লক্ষ্য করুন। চিকিৎসকের কাছে গেলে এসব তথ্য বললে পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে। নিজের পূর্বের গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা বা অন্য কারও অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
নিয়মিত antenatal care চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে চিকিৎসকের কাছ থেকে আগেই ধারণা নিলে অপ্রয়োজনীয় ভয় কমে। একই সঙ্গে জরুরি লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়। গর্ভাবস্থায় সামান্য ব্যথা অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও, মায়ের মনে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ পন্থা।
আমাদের শেষ কথাঃ
গর্ভাবস্থায় পেটের একপাশে ব্যথা হলে এর অর্থ সব সময় কোনো বিপজ্জনক সমস্যা হয়েছে—এমন নয়। জরায়ু বড় হওয়া, round ligament-এ টান, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জরায়ুর বৃদ্ধির সঙ্গে পাশের লিগামেন্টে টান পড়ে সাময়িক তীক্ষ্ণ ব্যথা হওয়া পরিচিত বিষয়।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ ও ঘুম ভালো করার উপায় জানুন
তবে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একপাশের তীব্র ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, কাঁধের ডগায় ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি থাকলে ectopic pregnancy-এর মতো জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। আবার পরবর্তী গর্ভাবস্থায় তীব্র বা স্থায়ী পেটব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, নিয়মিত সংকোচন, পানি পড়া বা অন্যান্য অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যথার কারণ নিজে থেকে নিশ্চিত করার চেষ্টা না করা। হালকা ব্যথা বিশ্রামে কমে গেলে এবং কোনো সতর্কতামূলক লক্ষণ না থাকলে চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। কিন্তু ব্যথা তীব্র, স্থায়ী, বাড়তে থাকা বা অন্য কোনো বিপদের লক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হবে। মা ও শিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অযথা নয়; বরং এটি সচেতনতার পরিচয়।
বিশেষ সতর্কতা: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার জন্য। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। প্রচণ্ড বা হঠাৎ পেটব্যথা, অজ্ঞান হওয়া/মাথা ঘোরা, উল্লেখযোগ্য রক্তপাত, কাঁধের ডগায় ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।

ইউভি বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url